২০২১ সালের পুলিশ নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2021 | BD police job circular

Bangladesh Police Job Circular 2021, Bangladesh Police Constable New Job Circular 2021, www.police.gov.bd, BD Police Job Circular 2021, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১, Police Job Circular, বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, পুলিশ নিয়োগ ২০২১ সার্কুলার, পুলিশের চাকরির যোগ্যতা, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ ২০২০ নতুন, পুলিশ সার্কুলার ২০২১, পুলিশ নিয়োগ যোগ্যতা, আবার কবে পুলিশ নিয়োগ দিবে


বাংলাদেশ পুলিশের নন-ক্যাডার সদস্য (এসআই, সার্জেন্ট ও কনস্টেবল) নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এতে অধিক উচ্চতার ও মেধাবী প্রার্থীরা পুলিশের নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন, সুযোগ কমবে কম উচ্চতার প্রার্থীদের। কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে পুরো পরীক্ষা পদ্ধতিতেই। 


থাকছে কম্পিউটারে দক্ষতা এবং প্রবণতা (পেশার প্রতি আগ্রহ) ও কণ্ঠস্বর পরীক্ষার মতো নতুন অনেক বিষয়। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি নিয়োগবিধির এই সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে এবং আজ রবিবার তা সরকারি আদেশ আকারে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। 


বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ সার্কুলার


এরপর নথিটি আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের ভেটিং শেষে কার্যকর হবে। রোববার (১৪ মার্চ) দেশ রুপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায় । প্রতিবেদনটি লিখেছেন সরোয়ার আলম ও আলাউদ্দিন আরিফ।


প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন আগামী এপ্রিল থেকে নুতন পদ্ধতিতে পুলিশে নিয়োগ শুরু হবে। এর মাধ্যমে সংস্কার ও পরিবর্তন হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের পুরনো নিয়োগ পদ্ধতির।


এ প্রসঙ্গে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশের নিয়োগে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। সামনে পুলিশের যেসব নিয়োগ হবে সেগুলো অতীতের তুলনায় কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। কোনো তদবিরই নিয়োগের ক্ষেত্রে কাজে আসবে না। কেউ তদবির করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে। যারা মেধাবী ও যোগ্য তারাই পুলিশে কাজ করার সুযোগ পাবে।


তিনি আরও বলেন, পুলিশে সদস্যদের নিয়োগগুলো পুলিশ সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করবে।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-প্লানিং অ্যান্ড রিসার্চ) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, 'বাংলাদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র), সার্জেন্ট ও কনস্টেবলদের নিয়োগপদ্ধতি যুগোপযোগীকরণের জন্য পুলিশ রেগুলেশন, ১৯৪৩ এর সংশ্লিষ্ট প্রবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 


যা বিগত ২০-১৫ বছরের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন। বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখার ভেটিংও সম্পন্ন হয়েছে।' প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি গত ৭ মার্চ নিয়োগবিধির সংশোধনীর অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে এআইজি আমজাদ বলেন, নথিটি আদেশ আকারে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আমরা আশা করছি আগামী এপ্রিল মাস থেকে সংশোধিত নিয়োগ পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যকর করা যাবে। 


তিনি আরও বলেন, সংশোধনীতে আমরা যোগ্যতার কিছু প্যারামিটার নির্ধারণ করে দিয়েছি। কেউ আবেদন করলেই গণহারে পুলিশ লাইনে ডাকা হবে না। উচ্চতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসাপেক্ষে যোগ্য প্রার্থীদের অটো স্ক্রিনিং করে অধিকতর যোগ্যদের ডাকা হবে।


বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১ | Police Job Circular


নিয়োগ পদ্ধতির সংশোধনী প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে দরকার দক্ষ পুলিশ প্রশাসন। আমরা এমন নিয়োগ চাই, যাতে একজন কনস্টেবলও যোগ্য পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে উঠতে পারেন। তিনি পর্যায়ক্রমে নিজ যোগ্যতায় পদোন্নতি পেয়ে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই নিয়োগ পদ্ধতি করা হয়েছে।


প্রস্তাবিত সংশোধনীর নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পদ্ধতি যুগোপযোগীকরণের জন্য পুলিশ রেগুলেশন ১৯৪৩ এর সংশ্লিষ্ট প্রবিধান সংশোধনকরণ প্রসঙ্গে বলা হয়- 

Bangladesh Police Job Circular 2021, Bangladesh Police Constable New Job Circular 2021, www.police.gov.bd, BD Police Job Circular 2021, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১, Police Job Circular, বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, পুলিশ নিয়োগ ২০২১ সার্কুলার, পুলিশের চাকরির যোগ্যতা, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ ২০২০ নতুন, পুলিশ সার্কুলার ২০২১, পুলিশ নিয়োগ যোগ্যতা, আবার কবে পুলিশ নিয়োগ দিবে


পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা অবশ্যই ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, বুকের মাপের ক্ষেত্রে ৩১ ইঞ্চি সাধারণ ও বর্ধিকরণ ৩৩ ইঞ্চি থাকতে হবে।  কনস্টেবল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আগে উচ্চতা নির্ধারিত ছিল ১ দশমিক ৫৮ মিটার বা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। সংশোধনীতে তা পাল্টে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি করা হয়েছে। 


পুলিশ নিয়োগ ২০২১: চাকরির খবর পুলিশ


এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে দৈনিক সংবাদপত্রের পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে। উচ্চতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে (পয়েন্ট স্কেল অনুসরণপূর্বক) প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং করে অধিক উচ্চতা সম্পন্ন এবং ভালো ফলাফল অর্জনকারী প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা নির্ধারণ করতে হবে। দৌড়, রোপ ক্লাইম্বিংয়ের পাশাপাশি হাইজাম্প, লংজাম্প, পুশআপ, সিটআপ এবং ড্র্যাগিং অন্তর্ভুক্ত ও উত্তীর্ণ হওয়ার প্যারামিটার নির্ধারক।


এসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১


সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআইদের নিয়োগ পদ্ধতির সংশোধনীতে পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বর্তমান উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির পরিবর্তে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। তাদের ওজন অনুমোদিত মাপ হিসেবে হতে হবে।


এসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের জন্য বর্তমান বিধি অনুযায়ী পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর নিয়োগের ব্যবস্থা করবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী যদি নিজ জেলা অফিসে আবেদন সময়মতো পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে উপপুলিশ প্রধান রেঞ্জেস আবেদন গ্রহণ করবেন। 


সংশোধিত প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নিয়োগের জন্য বহুল প্রচারিত ২টি বাংলা ও ১টি ইংরেজি দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এছাড়া পুলিশের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও দিতে হবে। এসআই পদের জন্য দরখাস্ত করতে হবে পুলিশ সদর দপ্তরের ওয়েব পোর্টালে অথবা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। 


আবেদনকারীর উচ্চতা বিবেচনায় ৪৫ শতাংশ, এসএসসি বা সমমানের ভালো ফলাফল বিবেচনায় ১৫ শতাংশ, এইচএসসি বা সমমানের ভালো ফলাফল বিবেচনায় ১৫ শতাংশ এবং ডিগ্রি অথবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভালো ফলাফল বিবেচনায় অপর ২৫ শতাংশ নেওয়া হবে। 


BD police job circular


পুলিশ সদর দপ্তর অটো স্ক্রিনিং করে যোগ্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। তবে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকৃত শূন্যপদের চেয়ে ৫ গুণের বেশি হবে না। এ তালিকার প্রার্থীদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।


সংশোধনীতে বলা হয়, উপপুলিশ মহাপরিদর্শক রেঞ্জেস কর্র্তৃক শারীরিক মাপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে উচ্চতা, বুক, ওজন ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই, সহনশীলতা পরীক্ষা এবং প্রচলিত দৌড় (৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে পুরুষ ১৬০০ মিটার, মহিলা ৭ মিনিটের মধ্যে ১০০০ মিটার), লম্বা লাফ (পুরুষ-৩ দশমিক ৫ ফুট এবং মহিলা- ২ দশমিক ৫ ফুট), ওপরে তুলে ধরা (পুরুষ-৪০ সেকেন্ডে ১৫ বার এবং মহিলা- ৩০ সেকেন্ডে ১০ বার), সিট অ্যাপস (পুরুষ- ৪০ সেকেন্ডে ১৫ বার এবং মহিলা- ৩০ সেকেন্ডে ১০ বার), টানা (পুরুষ- ৩০ ফুট ১৬০ পাউন্ড, মহিলা- ২০ ফুট ১২০ পাউন্ড) এবং দড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা (পুরুষ- ১২ ফুট এবং মহিলা প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৮ ফুট)। এছাড়া লিখিত ও শারীরিক পরীক্ষা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ অনুসারে নেওয়া হবে।


সারা দেশে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এসপি পদের নিচে নয় এমন কর্মকর্তাদের দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করবে। যেখানে ১০০ নম্বরের পৃথক দুটি প্রশ্নপত্র থাকবে। পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ থাকবে ৩ ঘণ্টা।


এতে ইংরেজি ও বাংলা রচনা ছাড়াও সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্ক থাকবে। এছাড়া ৫০ নম্বরের মানসিক পরীক্ষাও থাকছে। এসপি পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল শিট প্রস্তুত করে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ৫ নম্বর বিধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচিত আবেদনকারীদের মধ্যে যিনি ৫০ শতাংশ পাস নম্বর বা প্রতি বিষয়ে তদূর্ধ্ব নম্বর পাবেন, তাদের নামের লিস্ট নির্দিষ্ট উপপুলিশ মহাপরিদর্শক রেঞ্জেসের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর ওই প্রার্থীদের কম্পিউটারের ওপর পরীক্ষা নেবে। 


এতে এমএস ওয়ার্ড, এমএস এক্সেল, এমএস পাওয়ার পয়েন্ট, ওয়েব ব্রাউজিং এবং এর সমস্যা সমাধানের ওপর বিস্তারিত পরীক্ষা নেবে। যিনি এক বা একাধিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়ার পর কম্পিউটার টেস্টে পাস করবেন, পরবর্তী সময়ে ওই প্রার্থীর প্রবণতা (পেশার প্রতি আগ্রহ) পরীক্ষা এবং কণ্ঠস্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে প্রবণতা পরীক্ষার নম্বর ২৫, কণ্ঠস্বর পরীক্ষার নম্বরর ২৫ এবং যার মোট পাস নম্বর থাকবে ২৫।


পুলিশ সার্জেন্ট ও নারী সার্জেন্ট নিয়োগে বিদ্যমান পিআর, ১৯৪৩-এর প্রবিধান ৭৩৯-এর সংশোধন প্রস্তাবেও এএসআই নিয়োগের মতো একই ধরনের সংশোধনী আনার কথা বলা হয়েছে।


পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা সঙ্গে আলাপকালে বলেন, কনস্টেবল নিয়োগে তদবির-বাণিজ্য ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল নিয়োগের সময় রাজনৈতিক তদবির, সিøপ দেওয়া এগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে।


তারা আরও বলেন, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কনস্টেবল ও সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগে তদবির হয়নি বললেই চলে। পুলিশ সদর দপ্তর প্রতিটি জেলায় কঠোর মনিটরিং করে। এই জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতি জেলায় একজন পুলিশ সুপার ও একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে একটি তদারকি টিম করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর পর টিমগুলো তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় অবস্থান করে নিয়োগের স্বচ্ছতা প্রত্যক্ষ করে। 


ওই সময় পুলিশের নিয়োগে আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করার নির্দেশনাও ছিল। কনস্টেবল নিয়োগে প্রার্থীর চাকরি পেতে খরচ ১০৩ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে জেলার এসপিরা ঘোষণা দেন, সরকারি ফি ছাড়া প্রার্থীদের আর কোনো টাকা লাগবে না। তারা এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেন, পুলিশে চাকরি পেতে কোনো দালাল বা তদবির করতে হবে না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই পুলিশে চাকরি হবে। যার ফলে নিয়োগে সফলতা পাওয়া গেছে।

কনস্টেবল পদে আবেদনের যোগ্যতা:


কনস্টেবল পদের জন্য প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি শারীরিক যোগ্যতাও থাকতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০সহ এসএসসি পাস। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক ও অবিবাহিত হতে হবে। 


কনস্টেবল পদে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা:


প্রশিক্ষণ শেষ করার পর প্রার্থীদের কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত নিয়োগ করা হয়। একজন কনস্টেবল জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ অনুযায়ী ৯ হাজার ৯৫ টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া দুই বছর শিক্ষানবিসকাল সফলভাবে শেষ করার পর চাকরি স্থায়ী হলে বিনা মূল্যে পোসাকসামগ্রী, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসাসুবিধা, রেশনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একজন পুলিশ কনস্টেবল ছয় বছর চাকরি করার পর বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি পেতে পারেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার সুযোগ আসতে পারে।


সাব-ইন্সপেক্টর পদে আবেদনের যোগ্যতা:


সাব-ইন্সপেক্টর পদে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হবে। পাশাপাশি কম্পিউটারে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।


এ পেশার দায়দায়িত্ব: ২০১২ সালে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ পান অপূর্ব কুমার বর্মণ। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, এ পেশা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও দায়িত্বের। এ পেশাতে মানুষের কাছে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় অনেক বেশি। মাঠপর্যায়ের যত অন্যায়, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধসহ যাবতীয় দায়িত্বে তাদের অংশগ্রহণ করতে হয়। এ পদটি এখন দ্বিতীয় শ্রেণি করাতে সুযোগ-সুবিধাও ভালো পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে সাব-ইন্সপেক্টর থেকে ইন্সপেক্টর, অফিচার্জ ইনচার্জসহ পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ পদে যাওয়া যায়।


বর্তমানে এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন পুলিশে কর্মরত আছেন সাব-ইন্সপেক্টর শারমিন ইউসুফ। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে নারীরা এই পদে বেশি আসছেন। এটি চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। অন্যান্য অনেক পেশা থেকে এই পেশা নারীদের জন্য ভালো বলে জানান তিনি। এই পেশায় আরও বেশি নারী আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, এখন সপ্তাহে দুই দিন রাতে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁকে। এ ছাড়া পুরুষদের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করি আমরা। এই পেশা অনেক নিরাপদ ও কর্ম উপযোগী।

Bangladesh Police Job Circular 2021, Bangladesh Police Constable New Job Circular 2021, www.police.gov.bd, BD Police Job Circular 2021, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১, Police Job Circular, বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, পুলিশ নিয়োগ ২০২১ সার্কুলার, পুলিশের চাকরির যোগ্যতা, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ ২০২০ নতুন, পুলিশ সার্কুলার ২০২১, পুলিশ নিয়োগ যোগ্যতা, আবার কবে পুলিশ নিয়োগ দিবে


গত বছরে নিয়োগ পাওয়া নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর সার্কেল অফিসের শিক্ষানবিশ সাব-ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম। তাঁর মতে, এ পেশায় বিপদগ্রস্ত মানুষদের সরাসরি সেবা করা যায়। অপরাধ নিয়েই যেহেতু এখানে কাজ করতে হয়, তাই এ পেশায় ঝুঁকিও একটু বেশি। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হয়।


সাব-ইন্সপেক্টর পদে চূড়ান্ত নির্বাচন ও সুযোগ-সুবিধা:


নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ও ভিআর সফলভাবে সম্পন্নের পর মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হবে। বহিরাগত ক্যাডেট হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সরাদা, রাজশাহীতে ১ বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে। এই প্রশিক্ষণকালীন প্রার্থীদের বিনা মূল্যে আহার, বাসস্থান, ইউনিফর্ম, চিকিৎসাসেবা এবং মাসিক ১ হাজার টাকা হারে মাসিক ভাতা প্রদান করা হবে।


পুলিশের এসআই পদে নিয়োগ ২০২১


সফলভাবে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেড অনুযায়ী ১৬ হাজার টাকা স্কেলে বেতন দেওয়া হবে। স্বল্প মূল্যে রেশন, বিনা মূল্যে পোশাক, চিকিৎসা সুবিধা, ঝুঁকি ভাতা প্রাপ্য হবেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।


সাব-ইন্সপেক্টর শাহনেওয়াজ বাপ্পী বলেন, পুলিশের এসআই পদটিকে সেকেন্ড ক্লাস গেজেটেড অফিসার হিসেবে ধরা হয়। এসআইকে পুলিশ বাহিনীর মেরুদণ্ড বলা যায়। কারণ তাঁরা তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করেন।


নির্বাচিত হওয়ার পর এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ চলাকালে মাসিক এক হাজার টাকা ভাতার পাশাপাশি বিনা খরচে খাওয়া, বাসস্থান, ইউনিফর্ম দেওয়া হয়।


একজন সাব-ইন্সপেক্টর ‘সরকারি বেতন স্কেল-২০১৫’ অনুযায়ী দশম গ্রেডের বেসিক ১৬০০০ থেকে ৩৮৬৪০ টাকা হারে বেতন পান।


এ ছাড়া বিনা মূল্যে পোশাক, রেশন, ঝুঁকিভাতা, চিকিত্সাভাতা, যাতায়াতভাতা, মামলা তদন্ত ভাতা মিলিয়ে প্রথম দিকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো মাসিক বেতন পান।


এ ছাড়া বছরে পহেলা বৈশাখ, ঈদ কিংবা পূজায় উত্সবভাতা পান। বেতন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারলে বিদেশে মিশনে যাওয়ারও সুযোগ মিলতে পারে।


জাতিসংঘের ফরমড পুলিশ ইউনিটের (এফপিইউ) মিশনে গেলে বছরে ১৫-২০ লাখ টাকার মতো ভাতা পাওয়া যায়। সাব-ইন্সপেক্টর থেকে পদোন্নতি পেয়ে অ্যাডিশনাল এসপি বা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

Post a Comment

0 Comments